কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পশ্চিম বাইম্যাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দীর্ঘদিন ধরে শখ করে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন পুকুরের মালিক পশু চিকিৎসক বেলাল উদ্দিন।
ভুক্তভোগী বেলাল উদ্দিন পশ্চিম বাইম্যাখালী এলাকার নুরুল হোছাইনের ছেলে। তাঁর পুকুরে কাতলা, রুই, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শখ করে মাছগুলো লালন-পালন করছিলেন তিনি। মাছগুলোও বেশ বড় হয়ে উঠেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। শনিবার ভোরে পুকুরের পানিতে মাছ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বেলাল উদ্দিনকে খবর দেন। পরে তিনি পুকুরে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেন। কিছু মাছ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি মাছ তুলে পুকুরপাড়ে রাখেন।
বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শখ করে পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছিলাম। মাছগুলো বেশ বড় হয়েছিল। মাঝেমধ্যে ক্যাপা জাল দিয়ে নিজেই মাছ ধরতাম। ইচ্ছা ছিল, সব মাছ একসঙ্গে ধরে প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিলিয়ে দেব। কিন্তু পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।’
তিনি অভিযোগ করেন, মদন আলীর ছেলে শাহালম এর আগে তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন। ওই বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা এছারুল হক ও মহিউদ্দিন বলেন, ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় পুকুরের মাছগুলো দেখে তাঁদের ভালো লাগত। বেলাল উদ্দিন শখ করে মাছ চাষ করছিলেন। পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনায় তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
বেলাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের শখের মাছ হারিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
এনইউ/আরএন