ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে সরকার: মাহ্‌দী আমিন
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
X
Advertisement

স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেন, স্থাপত্যশিক্ষা ও স্থপতিদের পেশাকে সরকার অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় মূল্যায়ন করছে। দেশের মেধাবী স্থপতিরা যেন বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের আট মাসের মাথায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে ঠিকই, তবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সমস্যা সমাধানের অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আর্চ সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, দেশের স্থপতিরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত নীতির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নতুন পরিচয় তুলে ধরতে স্থপতিদের মেধা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার চায়, দেশের স্থপতিরা এমন দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন স্থাপনা নির্মাণে অবদান রাখুন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমৃদ্ধ করবে।

তিনি বলেন, এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সরকারি খাত প্রয়োজনীয় সহায়ক নীতিমালা ও অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করবে, যাতে বেসরকারি খাত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পায়।

দেশীয় স্থপতিদের পেশাগত দক্ষতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারের সহযোগিতায় তাঁরা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করবেন। বাংলাদেশি স্থাপত্য ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে আইএবি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে সরকারের সর্বোচ্চ সমর্থন থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থাপত্যকে জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি বিশেষায়িত ও সৃজনশীল পেশা হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, স্থাপত্যে সময়ের সারমর্ম, ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ধারণ করার পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোত্তম চর্চাগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশ্বজুড়ে স্থাপত্যের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হলেও বাংলাদেশের স্থপতিরা নিজেদের সংস্কৃতি ও শেকড় অক্ষুণ্ণ রেখে অনন্য অবদান রাখছেন।

তিনি জানান, প্রতি বছর দেশে প্রায় এক হাজার নতুন স্থাপত্য স্নাতক বের হচ্ছেন। তাঁদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের চাহিদার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। তরুণ স্থপতিদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, বর্তমানের আন্তসংযুক্ত বিশ্বে বাংলাদেশি স্থপতিরা দেশে থেকেই বিদেশের বড় বড় নকশা ও স্থাপত্য প্রকল্পে কাজ করতে পারবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ক্যানবেরা অ্যাকর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশি ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্থাপত্যশিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার সার্বিক মূল্যায়নের উদ্যোগ নেবে বলেও জানান মাহ্‌দী আমিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, মানসম্মত গ্রন্থাগার ও স্টুডিও, প্রয়োজনীয় স্থাপত্য সরঞ্জাম, উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ ও স্থাপত্যশিক্ষায় বাড়তি বাজেট বরাদ্দে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।

লন্ডন ও নিউইয়র্কের আইকনিক স্থাপনাগুলোর উদাহরণ টেনে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে বিশ্বমানের আইকনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতা বাংলাদেশের স্থপতিদের রয়েছে। স্থাপত্য যেন শুধু বর্তমানের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে আধুনিকতার সঙ্গে দেশীয় শেকড়, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান।

ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. শরীফ শামস ইমনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, দক্ষিণ আফ্রিকার স্থপতি কেভিন বিংহ্যাম, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম. মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক, স্থপতি মাহমুদুল আনোয়ার রিয়াদ এবং স্থপতি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement