ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে।
প্রিলুকিতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে। ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ৪৭ বছর বয়সী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ওলেহ মালিশ ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি চেরনিহিভ অঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর একটি রাইফেল ইউনিটে যোগ দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অবসর নেন। তাঁর স্ত্রীও পুলিশ কর্মকর্তা; হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের তিন বছর বয়সী এক আত্মীয়ও আহত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে একটি রেলকর্মীর পরিবারও রয়েছে। ইউক্রেনীয় রেলওয়ের প্রধান ওলেক্সান্দর পার্তসভস্কি জানিয়েছেন, হামলায় এক ট্রেনচালক, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই সন্তান আট বছর বয়সী ছেলে ও ১৩ বছর বয়সী মেয়ে নিহত হয়েছে।
নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র এক বছর। পরে চেরনিহিভ অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, প্রিলুকিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ হয়েছে; তাঁদের মধ্যে পাঁচ শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় ৫৫ জন।
দেশজুড়ে কিয়েভ, ক্রেমেনচুক ও আলেক্সান্দ্রিয়াতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কিয়েভের একটি উপশহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন। বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, শিল্প স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের কিছু বেশি ভূপাতিত করা হয়েছে।
জেলেনস্কি এ হামলাকে রাশিয়ার চালানো সবচেয়ে ‘জঘন্য’ হামলাগুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংরক্ষণের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে মস্কোর দাবি।
হামলার সময় কিয়েভের বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ রেলস্টেশনে আশ্রয় নেন। রাজধানীতে রাতভর একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার পার্ম, সামারা ও আস্ত্রাখান অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
এফএস