পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে ভারতের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত স্থাপনার গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় নৌবাহিনীর ১৩ সদস্যসহ ১৮ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।
অন্ধ্রপ্রদেশের গোয়েন্দা বিভাগের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’ নামে অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা ভারতের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানের তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের (পিআইও) কাছে পাঠাচ্ছিলেন। এসব তথ্যের মধ্যে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনার তথ্যও ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজয়ওয়াড়ায় মামলা করে ভারতের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পুলিশ। মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ফৌজদারি ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত ধারা, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন এবং সরকারি গোপনীয়তা আইনের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়।
অভিযান পরিচালনায় সিআইসির ১২টি দল গঠন করা হয়। দলগুলো অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কেরালা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গোয়া, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার ও ছত্তিশগড়ে অভিযান চালায়। ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার দুজনের একজন অন্নম সাই ভারা প্রসাদ। তিনি বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কে গোপন তথ্য পাকিস্তানভিত্তিক এক গোয়েন্দা অপারেটিভের কাছে পাঠিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন।
আদালতে হাজির করা হলে তাকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতে বিশাখাপত্তনমের কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্য গ্রেফতার ব্যক্তি প্রদীপ মুখার্জি বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে কর্মরত নৌবাহিনীর সদস্য। তাকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে তিনি ওটিপি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা স্থাপনা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও তিনি পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজয়ওয়াড়ার আদালতে হাজির করা হলে তাকেও ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতে কারাগারে পাঠানো হয়।
৩১ বছর বয়সী প্রদীপ মুখার্জি ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন। পরে তাকে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডিজিটাল কার্যক্রমে সন্দেহজনক কিছু তথ্য পাওয়ার পর সিআইসি কর্মকর্তারা তাকে নজরদারিতে রাখেন। ৩ অক্টোবর কোয়েম্বাটোরে প্রশিক্ষণ চলাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পাকিস্তানি অপারেটিভ নারীর সঙ্গে প্রদীপের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়।
চক্রটি কতদিন ধরে ভারতের গোপন তথ্য পাচার করছিল, কোন ধরনের তথ্য ও ছবি পাকিস্তানি অপারেটিভদের কাছে পাঠানো হয়েছে, এর বিনিময়ে কত অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
এসএস