তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও সামাজিক মেরুকরণের কারণে চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি দেশটি গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি প্রতিবেদন। ড্রপ সাইট নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে সোমবার সিআইএ’র গত আগস্টের এই গোপনীয় মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়।
‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ভাঙন) শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কট্টর অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় পাওয়ার বিষয়টি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধের জন্য লাখ লাখ রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হলেও ইয়েশিভায় ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে আল্ট্রা-অর্থোডক্স পুরুষরা ঐতিহ্যগতভাবেই এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ ছাড় বাতিলের চাপ বেড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার তাদের সামরিক নিয়োগসংক্রান্ত আইন পাসে ব্যর্থ হয়েছে, যা সামরিক পরিষেবা এড়ানোর অভিযোগে একাধিক তরুণকে আটক ও বিশাল বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস পার্টি ক্ষুব্ধ হয়েছে।
সিআইএ-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শেষে হাজার হাজার সশস্ত্র সেনা ও রিজার্ভ সদস্যের বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। কারণ ইসরায়েলে রিজার্ভে থাকা সেনারা বাড়িতেও অস্ত্র রাখতে পারেন এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন সেখানে স্বাভাবিক ঘটনা। এ ছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ও সামরিক ব্যয়ের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
সিআইএর ‘রেড সেল’ নামে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, যার কাজ মূলধারার ধারণার বাইরে গিয়ে বিকল্প ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে নেতানিয়াহু বা তার বিরোধী জোট কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নাও পেতে পারে। বিদেশি প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমানো কিংবা আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভেতরের অসন্তোষের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদিকে গত শুক্রবার ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট প্রার্থিতা বাতিলের আভাস দেওয়ায় এক ফিলিস্তিনি রাজনীতিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যদিও অন্য চারটি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আদালত।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই