যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অর্থ পাচার, শিশুদের যৌন নির্যাতন, অভিবাসন জালিয়াতি, কর ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি এবং বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে এসব মামলা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একক কোনো সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য এত বেশি মামলা আগে করা হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এটিকে আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন।
মামলাগুলোর লক্ষ্য হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মেক্সিকো, পাকিস্তান, চীন, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, কানাডা, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় পরিচয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের নথিতে থাকা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মার্কিন আইনে কোনো ব্যক্তি যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল এবং গুরুতর অপরাধ বা নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার অভিযোগে তা প্রয়োগ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে। জুলাইয়ে ১০ জন এবং আগস্টে আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা করার পর এবার ৪০টি মামলা দায়েরের ঘোষণা দেওয়া হলো।
তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতার বিস্তৃত প্রয়োগে নির্দিষ্ট অভিবাসী গোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পাশাপাশি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগও নিয়েছে। এসব নীতি নিয়ে দেশটির আদালতে একাধিক আইনি লড়াই চলছে।
-টিএস