ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
শিশুদের সঙ্গে শৈশবে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম আপডেট: ০৬.১০.২০২৬ ৭:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা পেছনে ফেলে যেন নিজের শৈশবেই ফিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামনে একের পর এক কৌতূহলী মুখ, চোখজুড়ে নানা প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নগুলো হাসিমুখে শুনছেন প্রধানমন্ত্রী, দিচ্ছেন উত্তর। কখনো নিজের শৈশবের স্মৃতি বলছেন, কখনো শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাচ্ছেন।

এরই মধ্যে হঠাৎ এক শিশু বলে উঠল, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’ নিজের মেয়ের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়া শিশুটির কথা শুনে মুচকি হেসে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন?’

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন নিজের শৈশবের গল্প, জানান শিশুদের নিয়ে তার ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশার কথা।

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর মূল আয়োজনের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়।

প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে এক শিশু প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার শৈশবের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতির কথা জানতে চায়। জবাবে সুন্দরবনের একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, ছোটোবেলায় তার বাবার ব্যস্ততার কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাইরে ঘোরার সুযোগ খুব একটা হতো না। তবে, একবার তার বাবা তাকে, তার মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তিন দিনের জন্য সুন্দরবনে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টে কাটানো সেই দিনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি পুকুরপাড়ে গেলে স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, আগের রাতে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার পানি খেতে এসেছিল। পুকুরের নরম কাদার ওপর বাঘের একদম তাজা থাবার ছাপ তিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন। শৈশবের সেই বিশেষ স্মৃতিটি আজও তার মনে একইভাবে ভেসে ওঠে।

শিশুদের সঙ্গে গল্পের পাশাপাশি তাদের জন্য কিছু পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, গান, কারাতে ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে।

প্রকৃতির যত্ন নেওয়া এবং সব প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব মানবিক গুণের চর্চা করেই মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। গ্রাম ও শহরের সব শিশু যাতে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়, সেজন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা নতুন কুঁড়ি কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলো আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

‘বড় হয়ে সব খেলনা কিনে নেব’
আরেক শিশুর প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি যখন আমাদের মতো ছোট ছিলেন, তখন বড় হয়ে কী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং কীভাবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছালেন?’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সত্যি কথা বলব, আসলে তখন কোনো স্বপ্ন দেখতাম না। তোমার মতো যখন ছোট ছিলাম, তখন শুধু ভাবতাম যে, বড় হয়ে সব খেলনাগুলো কিনে নেব। আমি যখন বড় হব, তখন সব খেলনাগুলো কিনে নেব-এরকমই ভাবতাম আমি।’

‘শুধু লেখাপড়া করলে হবে না’
দেশের সব শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি যে, তোমরা যত সুন্দরভাবে, যত কনফিডেন্টলি বড় হবে, বাংলাদেশ ততটা কনফিডেন্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।’

তিনি বলেন, শুধু লেখাপড়া করলে হবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি গান, মিউজিক, নাচ, কবিতা আবৃত্তি, কোরান-কিরাত প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলাসহ শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেককে যতটুকু সম্ভব সুযোগটা করে দেওয়া। সো দ্যাট তুমি যখন যত বড় হতে থাকবে, তুমি একজন কনফিডেন্ট মানুষ হিসেবে বড় হও। তুমি যাতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় হতে পারো। শুধু লেখাপড়া না, লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষ হিসেবে তোমার মধ্যে আর যে সব কোয়ালিটি আছে, সেগুলো যাতে তুমি ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারো, কোয়ালিটিগুলো যাতে ভালোভাবে প্র্যাকটিস করতে পারো, ভালো করে সেই সুযোগটা করে দেওয়া।’

প্রযুক্তির ব্যবহার হোক প্রয়োজন অনুযায়ী
ইন্টারনেটে শিশুদের বেশি সময় কাটানো এবং পড়াশোনা ও বিনোদনে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কীভাবে করা উচিত-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত।

তিনি বলেন, পড়াশোনা, বিজ্ঞান মেলা কিংবা কোনো স্পোর্টস সম্পর্কে জানার প্রয়োজন হলে প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে আধা ঘণ্টার জন্য তুমি একবার ব্রাউজ করলে, দেখবে কে কী বলল। বাট সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা এই বিষয়টাতে হোক, এত লম্বা সময় না থেকে বরঞ্চ তোমার জন্য যেটা ইম্পর্টেন্ট, সেগুলোতে টেকনোলজি যেই কাজটা তোমাকে হেল্প করবে… পড়ালেখা হোক বা অন্য যে বিষয় হেল্প করবে, সেগুলোতে মোর টাইম স্পেন্ড করা উচিত।’

শিশুদের করা প্রশ্নের ধরন দেখে প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় প্রশ্নগুলো বড়রা শিখিয়ে দিয়েছে। তোমাদের নিজেদের কিছু থাকলে জিজ্ঞেস করো? যেটা মনের মধ্যে আছে, সেটা জিজ্ঞেস করো?’

‘দুইটা স্কুলে পড়ালেখা করেছি’
এক শিশু জানতে চায়, প্রধানমন্ত্রী কোন স্কুলে পড়ালেখা করেছেন।
জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দুইটা স্কুলে পড়ালেখা করেছি। একটা শাহীন স্কুলে, ল্যাবরেটরি স্কুলেও ছিলাম।’

 ‘বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হেল্প করতে পারবে’
‘আমাদের উদ্দেশ্যে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি কী?’—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা ভবিষ্যতে একজন কনফিডেন্ট মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠো, যেই মানুষটা বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হেল্প করতে পারবে।’

এরপর শিশুটিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তুমি বুঝতে পেরেছ আমি কী বলেছি? ওকে, গুড।’

প্রতিটি ইউনিয়ন-উপজেলায় খেলার জন্য উন্মুক্ত জায়গার পরিকল্পনা

খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী শিশুদের জন্য প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ বা ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা আছে।

তিনি বলেন, স্টেডিয়াম করা কিছুটা ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের মতো দেশে সব জায়গায় স্টেডিয়াম করা সম্ভব নয়। তবে, প্রতিটি ইউনিয়ন বা উপজেলায় শিশুদের খেলার জন্য একটি উন্মুক্ত জায়গা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে শিশুরা খেলাধুলা করতে পারবে এবং অভিভাবকেরাও বিকেলে হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন একটি উন্মুক্ত স্থান, যেখানে সমাজের কমবেশি সবাই গিয়ে সুন্দর সময় কাটাতে পারবে।

বিশ্বে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রত্যাশা
বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই আছে।’

তিনি বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে শিশুদের বিভিন্ন আর্ট কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ ও ভালো ফলাফল নিয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগেও কুরআন কিরাত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিশুরা সৌদি আরব থেকে অনেক অ্যাওয়ার্ড নিয়ে এসেছে। মেয়েদের ফুটবলে সার্ক ফুটবলে ভালো করা এবং ছেলেদের ক্রিকেটে ভালো করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শিশুদের উৎসাহ বাড়াতে আরও কী করা যায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ‘আমরা চাই, তোমরা শুধু স্পোর্টসে না, স্পোর্টস বলো, সাইন্স ফেয়ার বলো, কুইজ কম্পিটিশন বলো, ম্যাথস কম্পিটিশন বলো, তোমাদের মতো বাচ্চারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাবে, তাদেরকে সব রকম সহযোগিতা করে যাতে তারা একটা সুন্দর ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারে।’

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো ও তাদের সুশিক্ষিত করতে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক শিশু ন্যূনতম শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তিনি বলেন, ‘তুমি যেটা বলেছ, খুবই আনফরচুনেট। আমাদের অনেক লক্ষ লক্ষ শিশু, তুমি যে রকম বললা, তারা মিনিমাম এডুকেশন থেকে বা মিনিমাম বাচ্চাদের যে ফ্যাসিলিটি, সেগুলো থেকে তারা ডিপ্রাইভ।’

তিনি জানান, ধীরে ধীরে এসব শিশুর কাছেও শিক্ষা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তুমি যে রকম সুবিধা পাচ্ছ বিভিন্ন আর্ট, কালচার, এডুকেশন—সবকিছুতে। এই বাচ্চাগুলোকেও যাতে আমরা সেই ফ্যাসিলিটিগুলো পৌঁছে দিতে পারি। আমরা চেষ্টা করছি, হয়ত সময় লাগবে। কিন্তু ইনশাল্লাহ আমরা পারব।’

‘তোমরা এতজন মিলে প্রশ্ন করছো-ডেঞ্জারাস ব্যাপার’
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে শিশুদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে তোমরা এতজন মিলে প্রশ্ন করছো না… ডেঞ্জারাস ব্যাপার, এখান থেকে কাজ করা। খুব কঠিন।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা
শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা শিশুদের জন্য সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, মানসিক বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী অনেক শিশু রয়েছে। অনেক দেশে এ ধরনের শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশেও সুবিধা আছে, তবে তা খুবই সীমিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটাকে বড় করতে চাচ্ছি, এক্সপ্যান্ড করতে চাচ্ছি।’

তাদের জন্য বিভিন্ন স্কুল তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের শিশুদের জন্য যে ধরনের অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রয়োজন, দেশে সেই সংখ্যায় শিক্ষক ও ইনস্ট্রাক্টর নেই।

তিনি বলেন, ‘কাজেই ওই টিচারদেরকে তৈরি করা, ইনস্ট্রাক্টরদেরকে তৈরি করা। তারপরে সেই ফ্যাসিলিটিগুলো তৈরি করা, এটা একটু সময় লাগবে। বাট আমরা হাত দিয়েছি কাজে। আস্তে আস্তে আমরা এগোতে থাকব, ইনশাল্লাহ।’

ছোটদের মতামতও নেন প্রধানমন্ত্রী
দেশ চালানো বা বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড়দের পাশাপাশি ছোটোদের মতামত জানতে চান কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভেরি ডিফিকাল্ট প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, তার আশপাশে ছোট কেউ তেমন নেই। তার একটি মেয়ে আছে, জাইমা রহমান, যিনি এখন বড় হয়ে গেছেন। তবে মাঝে মাঝে তার সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ও যেহেতু বড় হলেও আমার থেকে তো অনেক ছোট। তোমাদের থেকে হয়ত একটু বড়। কাজেই তোমাদের সঙ্গে হয়ত ওর গ্যাপটা তুলনামূলক কম। আমার সঙ্গে তোমাদের গ্যাপ যেহেতু বেশি। সেজন্য তোমাদের মাইন্ডটা ও (জাইমা রহমান) রিড করতে পারে বা ওর সমান যারা আছে বা ওর থেকে যারা ছোট আছে, তাদের মাইন্ডটা রিড করতে পারে।’

তিনি বলেন, শিশুদের কোনো বিষয় থাকলে অনেক সময় তিনি জাইমা রহমানের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা করেন। ‘তখন আমাকে ও একটা পিকচার দিতে পারে, যেটাতে ডিসিশন নিতে সুবিধা হয়।’

‘তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’
বিশেষ দিনে কোনো বার্তা আছে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ কথাটা হচ্ছে যে, তোমরা হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’

তিনি বলেন, টেলিভিশনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে বাইরের সুন্দর কোনো দেশ দেখলে শিশুরা হয়ত ভাবে, বাংলাদেশও যদি এমন হতো! প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব।

‘কিন্তু সেটা যদি তোমরা সকলে মিলে ডিসাইড করো যে হ্যাঁ, আমাদের বাংলাদেশটাকে আমরা ওরকম সুন্দর করে গড়ে তুলব, তাহলে পসিবল সেটা।’

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা সকলে নিজেদেরকে গড়ে তোলো। তোমরা যদি নিজেদেরকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারো, তাহলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারব।’

‘শেষ পরীক্ষা?’
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেষ পরীক্ষা? এখন অনলাইন পরীক্ষা শুরু হবে। বেশ কঠিন পরীক্ষা হচ্ছে। ওকে।’

এরপর হঠাৎ জাইমা রহমান অনুষ্ঠানে আসেননি কেন-জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাইমা আপু বাইরে আছেন। সেজন্য আজকে এখানে আসতে পারেনি।’
ঠিক তখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বসে থাকা এক শিশু বলে ওঠে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার নাম জাইমা।’

শিশুটির কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই নাকি। এতক্ষণ তুমি বলো নাই কেন? থ্যাংক ইউ, নাম বলার জন্য।’

এ সময় উপস্থিত শিশুরা করতালি দিয়ে ওঠে।

এরপর ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, খাগড়াছড়ি, খুলনা, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার শিশুরা প্রধানমন্ত্রীকে নানা প্রশ্ন করে এবং তিনি সেসব প্রশ্নের জবাব দেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে ১৫০ জন শিশু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়। এ সময় বিশেষ স্মারক ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শনীর গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং শিশু জাদুঘর ভবনের সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।

টিআই

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement