ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
পুঁজিবাজারের আমূল পরিবর্তনে প্রয়োজন সুশাসন এবং সেলফ-রেগুলেশন: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পুঁজিবাজারকে বর্তমান নাজুক অবস্থা থেকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে বাজার সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের স্বতঃস্ফূর্ত সেলফ-রেগুলেশন এবং সুশাসন চর্চার প্রয়োজন।

আজ রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত World Investor Week 2026-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন ।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী দেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিগত সময়ে ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য নানা প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেমন অটোমেশন, সিডিবিএল ইত্যাদি করা হলেও সার্বিকভাবে বাজার ইতিবাচক ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পুরো অর্থনীতির পাশাপাশি আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটও আজ একটি গভীর গর্তে পতিত হয়েছে। বর্তমানে আমরা একে উদ্ধার করার চেষ্টা করছি, যার জন্য আমাদের কিছু কঠিন ও বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক অর্থায়ন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এতদিন পর্যন্ত আমাদের অর্থনীতির নির্ভরতা ছিল প্রধানত ব্যাংক ঋণের ওপর। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ফলে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের এখন ‘হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট’-এর দিকে যাত্রা করতে হবে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন এবং ইক্যুইটি মার্কেটের ওপর জোর দিতে হবে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের রূপান্তর ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপে প্রখ্যাত বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিউ ইয়র্কে আমরা ডলার বন্ড এবং হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছি। পাশাপাশি সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের ফাইন্যান্সিং স্ট্রাকচার বদলে দেওয়া হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তার জন্য প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা কেবল গতানুগতিক বৈদেশিক ঋণ দিয়ে সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে আমরা এই আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারিত্ব দেখতে চাই। বিএসইসি একা কোনো অলৌকিক পরিবর্তন আনতে পারবে না। ব্রোকার, স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এবং ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং বোর্ডের মতো প্রতিটি স্টেকহোল্ডারকে নিজেদের নৈতিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করে সেলফ-রেগুলেট করতে হবে। রেগুলেটর এসে নির্দেশ দেবে সেই অপেক্ষায় না থেকে স্ব উদ্যোগেই বাজারে স্বচ্ছতা ও ট্রাস্ট নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোর চেয়ে নৈতিক দায়িত্বশীলতার সাথে বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের চেহারা ইতিবাচকভাবে বদলে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, মাসুদ খান, এফসিএ, এফসিএমএ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজমা মোবারেক, সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনাবা মীর নাদিয়া নিভিন  চেয়ারম্যান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন।

টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement