রাজবাড়ীর পাংশায় এক সোনা ব্যবসায়ীকে চেতনানাশক মেশানো মিষ্টি খাইয়ে অচেতন করার পর তার দোকান থেকে ২৫ ভরি সোনা, ২০০ ভরি রুপার অলংকার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন নামে ওই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং চুরি হওয়া অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন তার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে পাংশা থানার নারায়ণপুর দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’ থেকে এসব অলংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০টি সোনার আংটি, ১৬ জোড়া কানের দুল, ২০ জোড়া পাশা দুল, চারটি গলার হার ও ১০টি চেইন রয়েছে। এছাড়া প্রায় আট লাখ টাকা মূল্যের ২০০ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে জায়ফুল ইসলাম চুরির পরিকল্পনা করেন। দোকানের মালিক শহিদুল ইসলামের পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে তাকে জলিলপাড়ায় নিজের বোনের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে শহিদুলকে খাওয়ানো হয়। অচেতন হয়ে পড়লে তার পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে জায়ফুল দোকানে ফিরে যান।
পরে দোকানে থাকা অপর কর্মচারী দীপকে কৌশলে খাবার খেতে পাঠিয়ে দিয়ে দোকানের সোনা, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়। এরপর দোকান মালিককে দত্ত মার্কেট মোড়ে রেখে জায়ফুল পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাংশা মডেল থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুল ইসলাম, পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএস