দীর্ঘ তিন বছর ধরে মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন যুবক মাসুদ রানা। ধার-দেনা করে এবং আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চালিয়ে আসলেও এখন অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার কেমোথেরাপি। বন্ধ হয়ে গেছে তিন সন্তানের লেখাপড়াও। সন্তানদের জন্য পরিবারের হাল ধরতে বাঁচতে চান মাসুদ রানা। তবে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করা তো দূরের কথা, বর্তমানে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে অসহায় পরিবারটির। সরকার ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে বেঁচে যেতে পারেন মাসুদ রানা ও তার পরিবার।
জানা গেছে, তিন বছর আগেও সুস্থ-সবল ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন দক্ষিণ কলাবাগ খালপাড় এলাকার বাসিন্দা ও মিশুক (অটোরিকশা) চালক মাসুদ রানা। স্ত্রী সাজেদা বেগম, দুই ছেলে শাহরিয়ার ও সাব্বির এবং এক মেয়ে মুশকানকে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তার স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। তিন বছর আগে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ার পর নিজের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম মিশুকটি বিক্রি করে দিয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে সন্তানদের লেখাপড়া।
ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে ১০ লাখ টাকারও বেশি খরচ করেছেন তিনি। ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন মাসুদ রানা। সুস্থ হতে তার আরও অন্তত দুটি কেমোথেরাপি দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ছয় লাখ টাকা। কিন্তু অর্থের অভাবে বন্ধ রয়েছে তার কেমোথেরাপি।
মাসুদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, গত তিন বছর ধরে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও অনেক অর্থের প্রয়োজন। সরকার ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে মাসুদের কেমোথেরাপি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
মাসুদের স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী মাসুদকে নিয়মিত কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতি দ্রুত তাকে আরও দুটি কেমোথেরাপি দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ছয় লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসহায় পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
মাসুদ রানা জানান, একদিকে নিজের চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানো—সব মিলিয়ে তারা চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। চিকিৎসার টাকা জোগাড় করা তো দূরের কথা, বর্তমানে সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। সংসারের খরচ চালানোই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার আরও দুটি কেমোথেরাপির জন্য প্রয়োজন ছয় লাখ টাকা।
নিজের সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাতে এবং পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ভাই-বোনসহ সকল সহৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন মাসুদ রানা।
বিত্তবানদের সামান্য সহযোগিতাই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মাসুদ রানার মতো অসহায় মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
নাম: মোঃ মাসুদ রানা
বিকাশ: ০১৯৬১০৩২৪২৮
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম: মোঃ মাসুদ রানা
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি
শাখা: বন্দর শাখা, নারায়ণগঞ্জ
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৩৬২১০০১০০৬৭৩৬১
এসএস/আরএন