বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া রেকর্ড পরিমাণ আয়ের একটি অংশ ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে কে কত অর্থ পাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বণ্টন হলে ফিফার সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশও এর অংশ পেতে পারে।
ছয় কনফেডারেশনের প্রধানকে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। উয়েফা ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৭-৩০ চক্রে সদস্যভেদে অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
ইএসপিএনের হাতে আসা ইনফান্তিনোর চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার আর্থিক সাফল্যের সুফল সংস্থাটির ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাজে লাগানো উচিত। তবে প্রস্তাবিত অর্থের অঙ্ককে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। অর্থের পরিমাণ, বণ্টন পদ্ধতি ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণে ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।
বিশ্বকাপের আয় বণ্টনের প্রস্তাবটি এসেছে ফিফার অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেই। এর আগে বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব করেছিলেন ইনফান্তিনো। ওই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনার।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন ২০ মিলিয়ন ডলার করে পেতে পারত বলে আলোচনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপের অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ সরাসরি বণ্টনের প্রস্তাব দেন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য সময়সীমা নির্ধারণের কথা বলেছেন। ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন উন্নয়নশীল অঞ্চলের কাঠামোগত ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেছে।
১৫ অক্টোবরের কাউন্সিল বৈঠকে এসব প্রস্তাব একত্র করে সমন্বিত মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। এরপর অর্থের পরিমাণ ও বণ্টন পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি আগেভাগে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করতে চান না। তবে ফিফার আর্থিক সক্ষমতা ও যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বিবেচনায় সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে যতটা সম্ভব অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পক্ষে তিনি। একই সঙ্গে অর্থ বণ্টনে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এসএস