ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্ব হৃদরোগ দিবস আজ: সচেতনতার পাশাপাশি চাই সহজ চিকিৎসা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। হৃদ্রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সময়মতো শনাক্ত করা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।

হৃদ্রোগের অন্যতম গুরুতর অবস্থা হার্ট অ্যাটাক। হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী কোনো ধমনীতে রক্ত জমাট বা অন্য কোনো কারণে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও মানসিক চাপ হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ বছর বিশ্ব হৃদরোগ দিবসের বার্তায় হৃদ্রোগের সতর্কসংকেত উপেক্ষা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ আপাত সুস্থতার আড়ালেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। বুকের মাঝখানে চাপ বা অস্বস্তি, বাহু, পিঠ কিংবা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম বা বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সব রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র বুকব্যথা নাও থাকতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে হৃদ্রোগ ও রক্তনালির রোগে বিশ্বে আনুমানিক ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর তিন-চতুর্থাংশের বেশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটেছে।

বাংলাদেশেও হৃদ্রোগের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের প্রায় ১৭ শতাংশের মৃত্যুর সঙ্গে হৃদ্রোগের সম্পর্ক রয়েছে। প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মতামতে উঠে এসেছে।

তামাক ব্যবহারও হৃদ্রোগের বড় ঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১৯ লাখ মানুষ তামাকের কারণে হৃদ্রোগে মারা যায়। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ বা প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করছে বলে তথ্য রয়েছে। দেশে প্রতিবছর হৃদ্রোগে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার; এর ২৪ শতাংশ মৃত্যুর জন্য তামাক দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হৃদ্রোগের চিকিৎসায় শুধু রোগী ও পরিবারের সচেতনতা যথেষ্ট নয়; দ্রুত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা জরুরি। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে উপসর্গ শনাক্ত করা, দ্রুত সাহায্য চাওয়া, রোগীকে উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা শুরু—প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে হৃদ্রোগের চিকিৎসাসেবা এখনো অনেকাংশে রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্য দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হৃদ্রোগ চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদ্রোগ প্রতিরোধে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধূমপান বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম জরুরি। ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, তামাক ব্যবহার এবং বিদ্যমান রোগ বিবেচনায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাবেন

নিয়মিত শরীরচর্চা: সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার কিংবা দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ তৈরি করা যায়।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবারও সীমিত করা উচিত।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

ধূমপান বর্জন: ধূমপান হৃদ্রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। ধূমপান ছাড়তে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

মানসিক চাপ কমানো: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কাজের ফাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ঘুম, বিনোদন এবং পরিবার-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। হৃদ্রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সহজলভ্য পরীক্ষা, দ্রুত জরুরি চিকিৎসা এবং সারা দেশে মানসম্মত হৃদ্রোগসেবা নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement