মানিকগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সদর ও সিংগাইর উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নেতাকে প্রথমে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে যান। পরে সেখান থেকে তাকে সিংগাইর উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় নেওয়া হয়। সেখানে একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে।
তবে হামলার কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পরিকল্পিতভাবে ওই নেতার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। আহত ব্যক্তির পরিচিতদের মধ্যে বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে তারা দাবি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ওই রাতে আহত ব্যক্তি কার সঙ্গে ছিলেন, কীভাবে তাকে ইটভাটায় নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মামলার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।