পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়েন তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউইয়র্ক সফরে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি ছিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, আটটি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকেন্দ্রিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১১টি বৈঠক।
সফরকালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান।
এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ। ভাষণে তিনি বিশ্বশান্তি, মানবতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন এবং সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারের ‘থ্রি-আর’—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে উৎপাদনমুখী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।
জাতিসংঘ সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির বিস্তারের আহ্বান জানান তারেক রহমান।
স্বাস্থ্য খাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ জন্য ১ লাখ অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সফরকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের মধ্যে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও হয়।