
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি কাউকে জানালে ও বিচার চাওয়া হলে তাকে ‘না পড়ানোর’ হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক। ঘটনা তদন্ত করে জড়িত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীর মা উম্মে হাবিবা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে এ অভিযোগ করেন।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী স্কুলটির মতিঝিল শাখার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার নাম মো. ইশমাম তাহমিদ সামি। সে পঞ্চম শ্রেণির ৭ নম্বর শাখার শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে সামির মা উম্মে হাবিবা উল্লেখ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর নজরুল বর্ষ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইংরেজি শিক্ষক নিজাম উদ্দিন কামাল তার ছেলেকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। বিষয়টি ক্লাস টিচারকে জানালে শিক্ষক নিজাম রেগে যান এবং শিক্ষার্থীকে হুমকি দেন। এ ঘটনায় তার ছেলে ভীত হয়ে পড়ে এবং তারা অভিভাবক হিসেবে লিখিত অভিযোগ করার উদ্যোগ নেন।
এতে আরও বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একই শিক্ষক পুনরায় তার ছেলেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন। সামি তার মাকে জানিয়েছে যে, শিক্ষক নিজাম বলেছেন, তুই বিচার দিয়েছিস, তোকে তো আর পড়াবো না। তোর পড়া ধরবো না।
‘এসময় শিক্ষক নিজামের উচ্চ চিৎকারে আশপাশের শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে আমার ছেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। ছুটির পর আমার ছেলের কান্নাকাটি ও কাঁপুনি দেখে একজন অভিভাবক আমার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে রাখেন।’
লিখিত অভিযোগে অভিভাবক উম্মে হাবিবা লেখেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণে আমার ছেলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে। অভিভাবক হিসেবে আমি এ নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করার ব্যবস্থা করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্কুলের বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা উম্মে হাবিবা।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজাম উদ্দিন কামালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি কল রিসিভ করেননি এবং পরে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিআইএস