ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে এই সহায়তার ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জানান, ফিলিস্তিনিদের জন্য ঘোষিত সহায়তার ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে। বাকি ২০ শতাংশ ব্যয় করা হবে শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও রয়েছে।
কার্নি বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিরা এখনো ভয়াবহ মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কানাডা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্রের অবস্থান রয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগের মুখে বিশ্ব নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে আবারও সমর্থন জানান।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে রাজনৈতিক নেতারা এই সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু কথার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে একই সময়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জোরালো হয়েছে।
কানাডা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এরই মধ্যে দেশটি ছয়শ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন সহায়তার লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের মানবিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখা।
এফএস