শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির প্রভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান।
ঝড়ের আশঙ্কায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির ৯২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে রেল ও ফেরি চলাচল। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত তাইওয়ানের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শক্তিশালী বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া চাম্পি চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট অন্যতম শক্তিশালী ঝড়। ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল) রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে এগিয়ে চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরে ঝড়টির দক্ষিণ জাপানের দিকে যাওয়ারও পূর্বাভাস রয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানে এ পর্যন্ত একজন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
তবে ঝড়টি দুর্বল হয়ে এলেও তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। সিডব্লিউএর পূর্বাভাসক লিউ পেই-তেং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তাইওয়ানের কাছাকাছি এসে ঝড়টি স্থির হয়ে গেলে, বৃত্তাকারে ঘুরলে কিংবা গতিপথে দোদুল্যমান আচরণ করলে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এফএস