ইরানের হরমুজ প্রণালিতে এক রাতেই সাতটি জাহাজে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং চারটি জাহাজে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ঘটনাটিকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করছে। তেহরানের ধারণা, ওয়াশিংটনের উৎসাহ ও সহযোগিতায় এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। এক রাতেই সাতটি জাহাজে হামলার ঘটনা আইআরজিসির স্বীকার করা এক দিনের সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যাও হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়ে নতুন সামরিক নীতির কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। এই নীতি অনুযায়ী, ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপকেও যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সরাসরি বিমান হামলার জন্য অপেক্ষা না করেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান নিয়েছে ইরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের কথা জানাচ্ছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহ, সহায়তা কিংবা সমর্থনে কোনো জাহাজ এ পথে চলাচল করলে সেটিও পাল্টা পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে।
তবে আগামী দিনগুলোতে আরও জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে ইরান সত্যিই এসব হুমকি কার্যকর করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। এর প্রভাব ইরানেও অনুভূত হচ্ছে। সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যেকোনো হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।