বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনায় তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য বাড়লেও ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছিল। এ সময় ব্রেন্টের দাম ১৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছিল।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম নেমেছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৬ ডলারে। এটি ছিল ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন দাম।
অন্যদিকে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২ ডলারে নেমেছে। দিনের শুরুতে এর দাম ১ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।
সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি
তেলের দামে নিম্নমুখী চাপের অন্যতম কারণ সৌদি আরবের তেল সরবরাহব্যবস্থার উন্নতি। মঙ্গলবার দেশটি ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম আবার শুরু করেছে।
ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হামলার জন্য সৌদি আরব ইরাকের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল।
হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর এই পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হচ্ছে।
এ পরিমাণ তেল বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় চার শতাংশের সমান।
সৌদি আরব মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির বাইরে বিভিন্ন স্থান থেকে এশিয়ার শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতিদিন ছয় লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এই পথে তেল পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও একই সঙ্গে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তার দূতেরা ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেলে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
টিআইএস