বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভা আজ রোববার জুম মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রচলিত কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় প্রথম শ্রেণির চার দিনের ক্রিকেট, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টিকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য ছয় দল নিয়ে একটি নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টের প্রতিটি দলের মালিকানাস্বত্ব বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্পোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু করার পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
সভায় পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিন দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ৪০ হাজার টাকা, ওয়ানডেতে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা দ্বিগুণ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতদিন দৈনিক ১০ হাজার টাকা ভাতা পেলেও এখন থেকে তারা ২০ হাজার টাকা করে পাবেন।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নতুন দুটি ড্রেসিংরুম তৈরির অনুমোদনও দিয়েছে বোর্ড। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, অনুশীলন ম্যাচ ও অন্যান্য ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন ড্রেসিংরুম দুটি ব্যবহার করা হবে। আর বর্তমান ড্রেসিংরুমগুলো মূলত আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি মিরপুরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি মাঠে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেটিক রানিং ট্র্যাক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বাচলের মাঠ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
বিসিবির নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো, খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
আরএন