দিনাজপুর সদর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে মা ও তার কথিত প্রেমিকের শাস্তির দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ সময় অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আসবাবপত্র মহাসড়কে নিয়ে এসে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
রোববার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের নশিপুর জামতলী বাজারে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। বিকেল ৪টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক অবরোধ তুলে নেন তারা।
জানা গেছে, সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে মোছা. জিন্নাতুন (১৯)-এর সঙ্গে একই এলাকার মৃত নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডুর (৩৫) কথিত পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। জিন্নাতুনের এর আগে অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল এবং পরে ওই বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। ওই সংসারে রাকিবা আক্তার রুহি নামে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুটি মা জিন্নাতুনের সঙ্গে থাকত। প্রায় ছয় মাস আগে জিন্নাতুন রিপনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
জিন্নাতুন মেয়েকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে থাকতেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এর মধ্যে গত তিন দিন আগে জিন্নাতুন কোতোয়ালি থানায় এসে রিপন টুডুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রিপন জিন্নাতুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং গত ৫ জুন বিকেলে তার চার বছর বয়সী কন্যা রুহিকে হত্যা করে অজ্ঞাত স্থানে মাটিচাপা দেন।
এদিকে শনিবার রাত থেকে হঠাৎ রিপন টুডু ও জিন্নাতুন নিখোঁজ হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলসহ আসবাবপত্র মহাসড়কে নিয়ে এসে নশিপুর জামতলী বাজার এলাকায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়।
এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হলেও তারা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। তদন্তের কথা বলা হলেও এখনো মামলা হয়নি এবং অভিযোগে নাম উল্লেখ করা এক নম্বর আসামিসহ কাউকে আটক করা হয়নি। তাদের দাবি, কোনো প্রভাব বা ক্ষমতার কারণে যেন তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত না হয়।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, কয়েক দিন আগে জিন্নাতুন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগটি হাতে পেয়েই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামি রিপনকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবার রাতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য জিন্নাতুনকে থানায় আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে তিনি থানায় আসেননি। তিনি আসামি রিপনের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এএইচ/আরএন