ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
মেঘনায় গোসলে নেমে পানিতে ডুবে দুই ভাইসহ তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ পিএম আপডেট: ২০.০৯.২০২৬ ৬:৩৪ পিএম
X

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মেঘনা নদীর পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকা থেকে দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হোসেনের মরদেহ বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে তারা নিখোঁজ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

নিহতরা হলেন—মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার মো. ফারুক আহমেদের যমজ দুই ছেলে আরিফিন আহমেদ (১৫) ও আশিকিন আহমেদ (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে আবিদ হোসেন (১৪)।

এদিকে শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। পাশাপাশি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ওই এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী যমজ দুই ভাই আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদ। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হোসেন একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজও ছিল।

রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে তারা বাসা থেকে বের হয়। স্কুলে না গিয়ে চারজন একত্রিত হয়ে মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায় গোসলের উদ্দেশ্যে নদীতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ পানি থেকে উঠে এলেও বাকি তিনজন তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুই শিক্ষার্থী আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আবিদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুই শিক্ষার্থী আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদের বাবা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সকালে তারা স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে মোবাইল ফোনে জানতে পারি, তারা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছে। আমার এখন বুক খালি হয়ে গেল। কী নিয়ে এখন বাঁচব।’ তিনি মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা ছিল। নোঙর করা বাল্কহেডের পাশে শিক্ষার্থীরা গোসল করতে নামে। এ সময় একটি বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করে সেটি চলে যাওয়ার সময় ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ইতোমধ্যে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। নৌ পুলিশ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুব আলম জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। শিক্ষার্থীদের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে সহযোগিতা করেছে। নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহণ করা হবে।’


এমএইচ/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝