ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার সহায়তা গ্রহণ করেছে জাকার্তা। আগুন নেভাতে বিমান, হেলিকপ্টার ও কয়েক ডজন অগ্নিনির্বাপণকর্মী পাঠাবে মালয়েশিয়া। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবানল চলছে। আগুনের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কিছু অংশে বিষাক্ত কুয়াশার মতো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠক করেন আহমাদ জাহিদ। বৈঠকে দাবানলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং মালয়েশিয়ার সহায়তার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আহমাদ জাহিদ বলেন, মালয়েশিয়ার সহায়তা গ্রহণে সম্মতি দেওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট প্রবোওর প্রতি কৃতজ্ঞ। মালয়েশিয়া একটি বোম্বার্ডিয়ার সিএল-৪১৫এমপি বিমান, তিনটি হেলিকপ্টার এবং ৫২ জন সদস্য পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে।
এই সহায়তা শুধু আগুন নেভানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে দাবানল ও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া মোকাবিলায় আরও সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও শুক্রবার মালয়েশিয়ার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি পরিবেশগত সমস্যা, যার প্রভাব একাধিক দেশের ওপর পড়ছে। আগুন ইন্দোনেশিয়ায় হলেও এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পৌঁছে যাচ্ছে। তাই প্রতিবেশীরা সহায়তা করতে চাইলে ইন্দোনেশিয়া তা স্বাগত জানায়।
জাপানের পর মালয়েশিয়ার সহায়তা
এর আগে গত সপ্তাহে জাপানও ইন্দোনেশিয়াকে দাবানল মোকাবিলায় সহায়তা করতে ৩০০-এর বেশি সেনা পাঠায়। বোর্নিও দ্বীপে আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের মোতায়েন করা হয়। এই দ্বীপটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইয়ের মধ্যে ভাগ করা।
শুষ্ক মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় প্রতিবছরই দাবানল দেখা যায়। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে শুষ্ক মৌসুম থাকে। তবে চলতি বছর আগুনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে এল নিনোর প্রভাব রয়েছে। এ বছর গত প্রায় চার দশকের তুলনামূলক রেকর্ডের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, কয়েক দশক ধরে বনভূমির অবক্ষয় এবং জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা পুড়িয়ে ফেলার মতো কর্মকাণ্ডও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এসব কারণে যেসব বনাঞ্চল স্বাভাবিকভাবে আগুন প্রতিরোধে সক্ষম ছিল, সেগুলোর অবস্থাও বদলে গেছে।
পুড়েছে লাখ লাখ হেক্টর জমি
ইন্দোনেশিয়া সরকারের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে।
তবে ‘নুসানতারা অ্যাটলাস’ প্রকল্পের হিসাব আরও বেশি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে প্রায় ৩ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। আগস্টের হিসাবও যোগ করলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মোট এলাকার পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টরে পৌঁছেছে বলে প্রকল্পটির অনুমান।
দাবানলের কারণে শুধু বন ও জীববৈচিত্র্যই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিবেশ ও জনজীবনেও প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
সূত্র: এএফপি
এসএস