সিগারেটের বাজারে আবারও দামের পরিবর্তন এসেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর পর এবার নিম্নস্তরের সিগারেটের নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) আরও ৩ টাকা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ মূল্য পুনর্বিন্যাস করা হয়। এর ফলে চলতি অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম দ্বিতীয় দফায় বাড়ল। তবে মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
সরকারি নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১০ শলাকার নিম্নস্তরের দাম ৬৫ টাকা হলেও মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চস্তরে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা বা তার বেশি বহাল রয়েছে।
তবে সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত জুলাই মাসের এক বাজার অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ব্র্যান্ডের সিগারেট। ১০ শলাকার নিম্নস্তরের ডার্বি প্রায় ৭০ টাকায়, ২০ শলাকার মধ্যম স্তরের ক্যামেল প্রায় ২০০ টাকায় এবং ১০ শলাকার উচ্চস্তরের গোল্ডলিফ স্থানভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রিমিয়াম স্তরের ২০ শলাকার প্যাকেট ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রির তথ্যও উঠে আসে। ফলে নতুন দর নির্ধারণের পরও খুচরা বাজারে এলাকা ও ব্র্যান্ডভেদে ভোক্তাকে বাড়তি দাম গুনতে হতে পারে।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চার স্তরের সিগারেটের দামই বাড়ানো হয়েছিল। তখন ১০ শলাকার নিম্নস্তরের দাম ৬০ থেকে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের দাম ৮০ থেকে ৯২ টাকা, উচ্চস্তরের দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ১৮৫ থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হয়। সর্বশেষ নতুন সিদ্ধান্তে কেবল নিম্নস্তরের দাম আবার ৩ টাকা বাড়ায় বাজেটের আগের তুলনায় এই স্তরে মোট দাম বাড়ল ৫ টাকা।
এনবিআরের এই নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই সিগারেট খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, সিগারেটের খুচরা মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশই কর হিসেবে এনবিআর পেয়ে থাকে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের কথা জানিয়ে এনবিআর সম্প্রতি আরেক নির্দেশনায় ফ্লেভার-ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেটের নিম্নস্তরে সরবরাহের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নিয়মে এ ধরনের ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট ১০ শলাকার প্যাকেট সর্বনিম্ন ৯২ টাকা অর্থাৎ মধ্যম স্তরের মূল্যে বিক্রি করতে হবে। সব মিলিয়ে বাজেটের ধাক্কার পর সেপ্টেম্বর মাসে এসে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও এক দফা বাড়ল, অন্যদিকে বাজারে নির্ধারিত এমআরপি না মানায় দোকানভেদে গ্রাহকের প্রকৃত খরচ আরও বেশি হচ্ছে।