ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কোম্পানির ব্যাংকের শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি একক বা একাধিক ব্যাংকে তার নিট সম্পদের বেশি মূল্যমানের শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।
আজ বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করলে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে তা নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কোনো শেয়ারধারক কোম্পানির পক্ষে ‘প্রতিনিধি পরিচালক’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না।
প্রতিনিধি পরিচালক মনোনয়নের আগে ওই ব্যক্তির নিজ নামে দায়মুক্ত শেয়ার মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে তাকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২ শতাংশ এবং অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে হবে। প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পুরো সময় এই মালিকানা বজায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কমানো, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে শেয়ারধারক কোম্পানির মনোনীত প্রতিনিধি পরিচালকদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করাই এ নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন চাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট শেয়ার মালিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র আবশ্যিকভাবে জমা দিতে হবে।
সার্কুলার জারির আগে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধি পরিচালককে পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ নির্দেশনার বিষয়টি উপস্থাপন করে পরিচালকদের অবহিত করতে হবে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা ও শেয়ারধারীদেরও বিষয়টি জানাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আরএন