ত্রুটির কারণে চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট। ইউনিটটির ত্রুটি নিরসনে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার রাত পর্যন্ত তারা এসে পৌঁছাননি। ফলে কবে নাগাদ ইউনিটটি পুনরায় পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। তবে গত রোববার সকালে বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
বুধবার রাতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (BIFPCL) প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটটি সচল করতে ভারতীয় প্রকৌশলীরা কবে নাগাদ পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত মেরামতকাজ শেষ করে ২ নম্বর ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
জেইউ/আরএন