দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে, অন্যদিকে যাত্রী পারাপারকে ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে স্থানীয় শ্রমিকদের মাঝে। যাত্রী সংখ্যা বাড়ায় বেড়েছে তাঁদের আয়-রোজগারও। ফলে স্বস্তি ফিরেছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে।
হিলি স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোর একটি। সড়ক ও রেলপথে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টটি বেশ জনপ্রিয়। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন এ পথে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করেন পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ভিসায় যাতায়াত কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। পরে চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে পুনরায় টুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে যাত্রী পারাপার।
হিলি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকাকালে এ পথে প্রতিদিন গড়ে ১১০ থেকে ১২০ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার করতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। যাত্রী পারাপার বাড়ায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকাতেও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আগমন করেছেন ১৯ হাজার ২৩৩ জন এবং বহির্গমন করেছেন ২১ হাজার ৪৪০ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী।
এ সময়ে ভ্রমণকর বাবদ সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২ কোটি ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া চলতি বছরের জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণকর বাবদ ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
যাত্রী পারাপার বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে চেকপোস্টে কাজ করা লাগেজ শ্রমিকদের মাঝেও। দীর্ঘদিন টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আয়-রোজগারও কমে গিয়েছিল। অনেক শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।
বর্তমানে যাত্রী সংখ্যা বাড়ায় আবারও তাঁদের কাজ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে আয়-রোজগারও।
একজন পাসপোর্টধারী যাত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভারতে যেতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এখন ভিসা চালু হওয়ায় সহজেই যাতায়াত করা যাচ্ছে।”
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার বেড়েছে। যাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নজরদারি করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী চলাচল আরও স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে এ পথে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে। এর পাশাপাশি সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন/এফএস