পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপাসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় দুই ঘণ্টা পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
রোববার রাতে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা।
এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়। এরই জের ধরে রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষে তাঁরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহীদুল ইসলাম শহীদ/ এফএস