রাজশাহীর বাঘায় পাঁচজনকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বাংলাবাজার এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আটকদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। ছয় দিন অতিবাহিত হলেও তাদের ফেরত পায়নি পরিবার।
জানা গেছে, পাট কিনে নৌকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার কলেজপড়ুয়া ছেলে মোশাররফ হোসেন (২৬), ইয়ানজের আলীর ছেলে সাহাবুল আলী (৪০), শাহাজাহান প্রামাণিকের ছেলে বাবর আলী (৪০), সামাদ মণ্ডলের ছেলে ও নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) এবং জামাল মণ্ডলের ছেলে ও নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)। এদের মধ্যে তিনজন পাট ব্যবসায়ী এবং দুজন নৌকার মাঝি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারতীয় সীমান্তের বাংলাবাজার থেকে পাট কিনে নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। রাতে নদীতে স্রোতের বিপরীতে নৌকা চালাতে গিয়ে ভুল করে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের সীমান্তে চলে যান। এ সময় বিএসএফ পাটবোঝাই নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন প্রথমে বাংলাদেশ সীমান্তের আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএসএফ জানায়, ‘তারা আমাদের আয়ত্তে নেই। ওপর মহলে যোগাযোগ করতে হবে।’
এদিকে আটকদের পরিবার বিষয়টি রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে জানায়। এমপি চাঁদ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন। কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে আটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে কান্নায় ভেঙে পড়েন নারী-পুরুষরা।
নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলামের মেয়ে বৈশাখী খাতুন বলেন, ‘আপনারা আমার বাবাকে এনে দেন। বাবা ছাড়া আমাদের সংসার চালানোর দ্বিতীয় কোনো মানুষ নেই। এই কয়দিন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে সংসার চলছে। এভাবে কতদিন চলব?’
কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেনের বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘অভাবের সংসারে লেখাপড়ার ফাঁকে ব্যবসা করে। এবার পার্টনারদের সঙ্গে পাট কেনাবেচা করছিল।’
বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা বলেন, ‘আমার স্বামী কোথায়, কেমন আছে—জানতে পারলে তাও শান্তি পেতাম।’
আশাদুলের ভাই সাহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি ও বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি, আমার ভাইসহ পাঁচজন ভুল করে ভারতের সীমান্তে চলে যাওয়ায় বিএসএফ পাটবোঝাই নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে গেছে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তাদের ফেরত পেতে সরকারের কাছে জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘এরা গরিব মানুষ। ভুল করে সীমান্তে চলে গেছে। তাদের দ্রুত ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হোক।’
এ বিষয়ে আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বিএসএফের সদর দপ্তরের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু তারা ফেরত দেয়নি। তারা সীমান্ত ভুল করে ভারতের ভেতরে আড়াই কিলোমিটার চলে গিয়েছিল।’
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি জেনেছি। বিজিবির সঙ্গে কথা বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’
এএইচ/আরএন