সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ওয়ালটন ফ্রিজ-টেলিভিশনের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের পাশাপাশি উচ্চ কনফিগারেশনের ল্যাপটপ ও ট্যাবও তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি খুচরা যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ফিনিশড পণ্য পর্যন্ত দেশেই উৎপাদন করছে। ওয়ালটনের পণ্যের মান ও স্থায়িত্ব যেমন উন্নত, তেমনি দামও সাশ্রয়ী। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও হাই-টেক পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর আগে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পরিচালক এস এম রেজাউল আলম ও এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।
হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছে মন্ত্রী প্রথমে ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি দেখেন। পরে ওয়ালটনের তৈরি বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে সজ্জিত ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন।
এরপর তিনি অত্যাধুনিক এসএমটি (সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি) মেশিনে পিসিবি বা মাদারবোর্ড উৎপাদন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপিত দেশের সর্ববৃহৎ ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টও পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ওয়ালটনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন।
পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “ওয়ালটন সম্পর্কে আমার একটি মিশ্র ধারণা ছিল। এতদিন মনে করতাম, ওয়ালটন হয়তো অ্যাসেম্বলিং বা রি-অ্যাসেম্বলিং করে। কিন্তু আজ কারখানা পরিদর্শন করে আমার সেই ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। আমি অভিভূত।”
ওয়ালটনের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ওয়ালটন রিনিউয়েবল এনার্জি ব্যবহার করছে। এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।”
দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “কৃষি ও তৈরি পোশাকশিল্পে আমরা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছি। এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগিয়ে যেতে ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। বর্তমান সরকার দেশীয় শিল্পবান্ধব। দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশীয় শিল্পায়নের স্বার্থে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও নীতিসহায়তা প্রদান করেছে। দেশীয় শিল্পের বিকাশে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
-টিএস