ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম সবচেয়ে প্রবীণ। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে শেখ সেলিমই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি বলে মনে করেন তিনি।
এ সময় নিজের ছোট বোন শেখ রেহানার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, শেখ রেহানা সরাসরি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। ফলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাকে সামনে আনার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি শেখ হাসিনা।
দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা তার রয়েছে। তবে দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এমনকি দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শুধু নিজের নিরাপত্তা নয়, দেশে ফেরার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত হতে পারেন, তাদের নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান শেখ হাসিনা। তার ভাষ্য, তার দেশে ফেরার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ুক, তা তিনি চান না।
শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভূমিকা এবং দলটির নেতৃত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তার অনুপস্থিতিতে দলকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে প্রশ্নে শেখ সেলিমের নাম সামনে আনেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও স্থিতিশীল করতে আঞ্চলিক বোঝাপড়া বাড়ানো জরুরি।
তিনি মনে করেন, কোনো সামরিক জোটের দিকে না গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো হলে তা ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর হবে বলেও মত দেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে একদিকে নিজের দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
এফএস