গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় জোট।
শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। সমাবেশের বক্তব্য শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোটের প্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থেই এই লংমার্চের আয়োজন।’ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট সত্ত্বেও জনগণকে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অধিকার আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এই লংমার্চ সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। সরকার কোনো বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা অতিক্রম করেই জোটের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। একই সাথে তিনি ইঙ্গিত দেন, জোটের বর্তমান ছয় দফা দাবি প্রয়োজনে এক দফায় রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক সরকারকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করে বলেন, দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিঞা গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, জনগণের কষ্ট কমাতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার প্রতারণা করছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকারকে সংসদে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক চর্চার অবসান।
নির্ধারিত রুট অনুযায়ী পথিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাক স্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই। পরিশেষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদিঘী ময়দানে বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে এ লংমার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের আশা, যাত্রাপথের প্রতিটি পয়েন্টেই সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটবে।
টিআর/এসএ