বন্যা, জলাবদ্ধতা, কৃষি উপকরণের সংকট ও খাদ্যের বাড়তি দামের চাপে দেশের প্রায় ১০ লাখ কৃষি পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। এসব পরিবারের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জন্য আগামী নভেম্বর পর্যন্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
২৫ আগস্ট প্রকাশিত এফএওর ‘জরুরি কৃষি সহায়তা পর্যবেক্ষণ’-এর ১৪তম প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নে দেশের ৬৪ জেলার ৬ হাজার ১৪৩টি পরিবারের কাছ থেকে এক মাস ধরে টেলিফোনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত নভেম্বরের তুলনায় জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ বেড়েছে।
মোট পরিবারের হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সহায়তা প্রয়োজন এমন পরিবারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে রংপুর, ঢাকা ও রাজশাহী। তবে কৃষি পরিবারের অনুপাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর। নদী অববাহিকা, হাওর ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটপূর্ণ।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী, জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন পরিবারের ৫৭ শতাংশ এক হেক্টরের কম জমিতে চাষ করে এবং ৬০ শতাংশ সবচেয়ে কম সম্পদশালী শ্রেণির। প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ৬৭ শতাংশ পরিবার বাকিতে খাবার কিনছে, ৬৬ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় কমিয়েছে এবং ৩০ শতাংশ কৃষি উপকরণ কেনার খরচ কমিয়েছে।
কৃষি উপকরণই সবচেয়ে বেশি চাহিদার তালিকায় রয়েছে। ৭২ শতাংশ পরিবার কৃষি উপকরণ এবং ৫৭ শতাংশ নগদ সহায়তা চেয়েছে। এ ছাড়া ৫১ শতাংশ পরিবার গবাদিপশুর খাবার এবং ৩৩ শতাংশ পশুর চিকিৎসাসেবা চেয়েছে।
এফএও আমন চাষের আগে কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ, নগদ অর্থ, গবাদিপশুর চিকিৎসা ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বিত সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ৭ থেকে ১৯ জুলাইয়ের ভারী বৃষ্টিতে দেশের ৪৩ জেলার ২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে ২৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমির ১ লাখ ৩৪ হাজার টনের বেশি ফসল নষ্ট হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪৭৮ কোটি টাকা।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার বীজ, চারা ও ত্রাণসামগ্রী দিয়েছে। আগাম বন্যায় ক্ষতি কমাতে হাওর এলাকায় দ্রুত কাটা যায় এমন ব্রি ধান ১১৮ সম্প্রসারণসহ কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এফএস