উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান কেভিন ওয়ারশ। শুক্রবার তার বক্তব্যকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কড়াকড়িমুখী বার্তা হিসেবে দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে এবং বেড়েছে ডলারের দর।
ওয়াইওমিংয়ের জ্যাকসন হোলে দেওয়া বহুল প্রত্যাশিত বক্তব্যে ওয়ারশ বলেন, মূল্যস্ফীতির অন্তর্নিহিত প্রবণতা ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার দিকে স্পষ্টভাবে ও যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে- এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তা না হলে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে।
তার বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে যায়। এসব বন্ডের সুদের হার সাধারণত ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়। এর ফলে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে ইউরোসহ অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দরও দ্রুত বেড়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় শীতকালেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
ওয়ারশ বলেন, মূল্যস্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ফেডের দায়িত্ব পালনের দিক থেকে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো বেশি উদ্বেগজনক। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশটির কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি ‘ভালো’ রয়েছে।
ওয়ারশের বক্তব্যের পর কিছু সময় ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে সূচকগুলো নিচে নেমে যায়। দিন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউন বলেন, জ্যাকসন হোলের বৈঠকে কেভিন ওয়ারশের বক্তব্য জুলাইয়ের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট ও কড়াকড়িমুখী বার্তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সুদের হার বাড়ানো নিশ্চিত নয়। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ওয়ারশ অন্তত সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর আগে ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শেষ করে। বিলাসপণ্য কোম্পানির শেয়ারের নেতৃত্বে প্যারিসের বাজারের প্রধান সূচক এক শতাংশ বেড়েছে।
এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোর বেশির ভাগও শুক্রবার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগের দিনের উত্থান ধরে রাখতে পারেনি। এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা ও ভবিষ্যৎ আয়ের আশাবাদী পূর্বাভাসের পর বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বড় ধরনের উত্থান হয়েছিল।
শুক্রবার টোকিও ও হংকংয়ের শেয়ারবাজার বেড়েছে। বিপরীতে সিউল ও সাংহাইয়ের বাজার কমেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সংকেত এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম সামান্য কমেছে।
ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ’ করার হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
সূত্র: বাসস
-টিএস