মুসলিম রীতিতে সাধারণত মৃত্যুর ৪০ দিন পর স্বজন ও এলাকাবাসীকে খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। তবে কিশোরগঞ্জের রফিকুল ইসলাম (৬২) জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
রফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। শুক্রবার বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তিনি এ ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেন। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দল বেঁধে অংশ নেন।
জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম এলাকায় একজন বিত্তশালী ব্যক্তি। তাঁর বেশ কিছু জমিজমাও রয়েছে। সম্প্রতি সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁর দোকান ও জমির একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করে সরকার। এ বাবদ তিনি মোটা অঙ্কের টাকা পান। সেই টাকা পাওয়ার পর মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
রফিকুলের চাচাতো ভাই আবদুস সালাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল নিজ গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় গিয়ে দাওয়াত দিয়েছেন। শুক্রবার শামিয়ানা টানিয়ে বাবুর্চি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। আগের রাতেই কয়েকটি গরু ও খাসি জবাই করা হয়।
আয়োজক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনেরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন নাও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।’
তিনি আরও জানান, তাঁর বয়স হয়েছে এবং শারীরিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। তাই জীবিত থাকতেই এ আয়োজন করেছেন।
তবে জীবিত অবস্থায় নিজের ‘চল্লিশা’ আয়োজনের কোনো নিয়ম ইসলামে নেই বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, মানুষের কখন ও কীভাবে মৃত্যু হবে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারেন না। এমনকি মৃত্যুর ৪০ দিন পর ‘চল্লিশা’ করাও ইসলামের বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আপ্যায়ন করা বা মৃত ব্যক্তির বন্ধু-স্বজনদের খাওয়ানো যেতে পারে। তবে জীবিত অবস্থায় ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করা ইসলাম সমর্থন করে না।