জুলাই আন্দোলনের সময় সাভারে পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৩ আসামিকে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালান। একপর্যায়ে আসহাবুল ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে গুলি করা হয়। এতে তাঁর বুকের বাঁ পাশে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে ইয়ামিনকে টেনে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রাখা হয় এবং আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য ওই যানটি এদিক-ওদিক চালানো হয়। এরপর তাঁকে প্রায় মৃত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্যকে বের করে তাঁর পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও ওই সদস্য ইয়ামিনকে মৃত ভেবে পায়ে গুলি না করে তাঁকে রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে সড়ক বিভাজনের পাশে ফেলে দেন।
স্থানীয়রা পরে গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আসহাবুল ইয়ামিন ছিলেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ মামলায় মোট আসামি ১৯ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জন হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে পলাতক ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিবসহ মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের হাজির করার জন্য এখন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।