দ্বৈত নাগরিকত্বের ইস্যুতে সাংবাদিকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যেভাবে ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলক পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, তাকে ‘পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের চর্চার দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের পাল্টা প্রশ্ন ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ প্রবণতার দৃষ্টান্ত। এটি মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
টিআইবির ভাষ্য অনুযায়ী, টেকনোক্র্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কাউকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ সংবিধানসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যাখ্যা না করে পদ গ্রহণ করাও প্রশ্নবিদ্ধ। জনস্বার্থে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সাংবাদিকরা যখন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, তখন প্রতিমন্ত্রী সরাসরি উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন।
সংস্থাটি বলেছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়াকে যেভাবে ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা হয়েছে, তা ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ সংস্কৃতির প্রতিফলন। টিআইবি মনে করে, এ ধরনের আচরণ মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাকস্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার খর্ব করার আত্মঘাতী প্রয়াস।
টিআইবি এ ধরনের চর্চা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মূল বিষয়—দ্বৈত নাগরিকত্ব—নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। অন্যদিকে, সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সংবিধানের ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সে প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
তার মতে, এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান প্রকাশ না করে প্রতিমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করায় বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সাংবাদিকরা জনস্বার্থে সঠিক তথ্য জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি ‘কে নিউজ করছে’ এবং ‘কার এত জ্বালা’—এ ধরনের পাল্টা প্রশ্ন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
টিআইবি বলছে, সংবাদটি কে করেছে বা কে প্রশ্ন তুলেছে, সেটি মূল বিষয় নয়। মূল প্রশ্ন হলো—প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কি না। সংস্থাটির মতে, এমন একটি সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব।