ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিলের পরিকল্পনা ইসির
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫১ পিএম
X

নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা করছে কমিশন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ইসির পাঠানো চিঠি পাওয়ার পর প্রস্তুতি জোরদার করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে সীমানা জটিলতা ও মামলা রয়েছে- এমন ইউনিয়নগুলো আপাতত নির্বাচনের বাইরে রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

গত ২ আগস্ট ইসিতে পাঠানো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন ও অন্যান্য তথ্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির সব প্রস্তুতি রয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিকে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে রমজান থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন করা হবে না। মার্চের শেষদিকে কিছু নির্বাচন করা যেতে পারে। এরপর দেশে ঝড়-তুফানের মৌসুম শুরু হওয়ায় আবহাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইসি কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করা হবে। একই সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে আগামী বছরের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় কমিশন।

ইউপি নির্বাচন কয় ধাপে হবে- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আগের নির্বাচনগুলোর মতোই ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব ইউনিয়নে মামলা বা সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, সেগুলো আপাতত নির্বাচনের আওতায় আনা হবে না। এসব জটিলতা সমাধানে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বরকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও জানান তিনি। এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে পুলিশ প্রধানের আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী সামগ্রী প্রস্তুত

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কেনা বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী সামগ্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ছোট হোসিয়ান ব্যাগ ও গানিব্যাগ ১ লাখ ১৫ হাজার পিস করে, বড় হোসিয়ান ব্যাগ ৭৫ হাজার পিস, মার্কিং সিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার পিস এবং অফিসিয়াল সিল ৮ লাখ ৪০ হাজার পিসসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে।

সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভোট আয়োজনের লক্ষ্যেই এসব সামগ্রী আগেই কেনা হয়েছিল বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন চেয়েছে ইসি


স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন ইসিকে দেওয়া হবে।

যাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি কমিশন সভায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে। নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণের পর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও অপসারণ করা হয়। একই সময়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলোও জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। 

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝