ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশঙ্কায় দেশটির অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান প্রকাশ্যে অনমনীয় অবস্থান বজায় রাখলেও ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নতুন অর্থনৈতিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং নতুন করে জনঅসন্তোষ উসকে দিতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে ছিল। যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, বাণিজ্যে বিঘ্ন, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের বিপুল ব্যয় এখন দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অচলাবস্থায়
গত জুনে সুইজারল্যান্ডে সর্বশেষ বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। এই অচলাবস্থা কাটাতে কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন। সফরের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তান চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দেশটির সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তেহরানে আলোচনায় বসবেন জেনারেল মুনির।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি
যুদ্ধ চলাকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৮ জন সেনা নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ইরানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা কীভাবে কাটবে—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: রয়টার্স
টিএস