ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা করে লোডশেডিং থাকবে বুয়েটে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ এএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এর মধ্যে দিনের বেলাতেই বিদ্যুৎ থাকবে না তিন ঘণ্টা। গ্যাসের চাপ কম থাকায় এ সময় ক্যাম্পাসের নিজস্ব জেনারেটর চালিয়েও পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে ৭টা, সকাল ১০টা থেকে ১১টা, দুপুর ২টা থেকে ৩টা, রাত ১২টা থেকে ১টা এবং রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এই পাঁচ দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে দিনে ও রাতে মোট পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মুখে পড়বে বুয়েট ক্যাম্পাস।

বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গী আলমের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিন, পরিচালক, বিভাগ ও অফিসপ্রধান, হলের প্রভোস্ট, পরিবেশ কমিটি, বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

বুয়েট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনের বেলা গ্যাসের চাপ কম থাকায় লোডশেডিং চলাকালে নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল (আজ) থেকে এই সিডিউল কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

লোডশেডিংয়ের এমন সূচিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের শিক্ষার্থী ফাহাদ হোসাইন বলেন, বুয়েটে পড়াশোনার পুরো সময়ে বিদ্যুৎ নিয়ে এভাবে চিন্তা করতে হবে- এটা তিনি আগে কল্পনাও করেননি। এখন সেই বুয়েটেই দিনে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের শিডিউল দেওয়া হচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, গ্যাসের চাপ কম থাকায় নিজেদের জেনারেটর দিয়েও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কতটা দুর্বল হলে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ফাহাদ বলেন, বছরের পর বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং হাজার হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো গ্যাস, কয়লা বা জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে সেই সক্ষমতার সুফল কী? এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

তার মতে, বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোন জ্বালানিতে কেন্দ্রগুলো চলবে, সেই জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে এবং দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান কতটা করা হবে—এসব বিষয়ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বুয়েট শিক্ষার্থী বলেন, জনগণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সময় কমাবে এবং শিক্ষার্থীরা লোডশেডিং মেনে নেবে। এগুলো বাস্তবতার অংশ হতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নেওয়া ভুল বা অপর্যাপ্ত জ্বালানি পরিকল্পনার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এত বছর বিদ্যুৎ খাতে পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের পরও যদি একটি জ্বালানি সংকটের কারণে আবার নিয়মিত লোডশেডিংয়ে ফিরে যেতে হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি আসলে কোথায় ছিল, সরকারের কাছে এ প্রশ্নের জবাব থাকা উচিত।

ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, জ্বালানি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকতেই পারে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা করাও একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি বা দুটি জ্বালানি উৎসে সমস্যা দেখা দিলেই যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় এবং লোডশেডিং শুরু হয়, তাহলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শুধু আজকের বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা চায় না; আগামী পাঁচ বা দশ বছর পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়াবে, সে বিষয়েও একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দেখতে চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রোববার বিকালে নোটিশটি জারি করেছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে লোডশেডিং না দিতে হয়। ডিপিডিসি যেই মুহূর্তে বিষয়টি সমাধান করতে পারবে তখনই স্বাভাবিক হবে।

তবে কতদিন লোডশেডিং চলতে থাকবে এ বিষয়ে তিনি কোন নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝