ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ধমনীতে প্লাক জমেছে? জেনে নিন হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর উপায়
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১০ এএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ধমনীর দেওয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরল, ক্যালশিয়াম ও অন্যান্য পদার্থ জমে তৈরি হয় ‘প্লাক’। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধমনীতে প্লাকের পরিমাণ বাড়লে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে এই প্লাক ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধে, যা হৃদ্‌রোগ (হার্ট অ্যাটাক) ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ধমনীতে প্লাক জমেছে জানতে পারলে শুধু ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর ভরসা না করে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ধমনীর প্লাক গলিয়ে ফেলার নানা প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ের কথা বলা হলেও চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তনে প্লাকের বৃদ্ধি ধীর করা সম্ভব; কিন্তু রাতারাতি তা গলিয়ে ফেলার প্রমাণিত কোনো উপায় নেই।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও ওষুধের প্রয়োজনীয়তা

ধমনীতে প্লাক তৈরির মূল কারিগর এলডিএল বা ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল। রক্তে এলডিএলের মাত্রা বেশি থাকলে তা কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকরা এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও এইচডিএল পরীক্ষা করে ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধমনীতে প্লাক ধরা পড়ার পর শুধু খাদ্যাভ্যাস বদলে অপেক্ষা করা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করে ‘প্রাকৃতিক উপায়’ খোঁজা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে খাবারের অভ্যাসে বদল

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য (যেমন- ওটস), ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ডালে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কার্যকর। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, ভাজাভুজি, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত মাংস ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত।

শারীরিক কর্মকাণ্ড ও লাইফস্টাইল

হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতারের মতো নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ, ওজন, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে ধমনীতে প্লাক থাকলে হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করতে হবে।

প্লাকের বৃদ্ধি রোধে আরও কিছু করণীয়—

১. ধূমপানের অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করা

২. অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

৩. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো

৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

৫. প্লাক কি পুরোপুরি দূর হওয়া সম্ভব?

প্লাক পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কি না, তা নির্ভর করে প্লাকের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক ঝুঁকির ওপর। চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য হলো প্লাকের বৃদ্ধি থামানো বা ধীর করা এবং এটিকে স্থিতিশীল রাখা, যাতে তা ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট না বাঁধে। এর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সুস্থ জীবনযাপন মেনে চলা আবশ্যক।

এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝