সামরিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েত। ড্রোন মোকাবিলা, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) পেন্টাগন জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ১৬তম যুক্তরাষ্ট্র-কুয়েত যৌথ সামরিক কমিশনের বৈঠকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মাইক ডিমিনো এবং কুয়েতের চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালেদ আল-শরিয়ানের নেতৃত্বে দুই দেশের কর্মকর্তারা অংশ নেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম), জয়েন্ট স্টাফ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং মেরিল্যান্ড ন্যাশনাল গার্ডের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান (ইউএএস) মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি। কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে। ফলে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতে কুয়েতের কাছে প্রায় ১ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতও ছিল।
ওই অস্ত্রচুক্তির আওতায় কুয়েত মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকে ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি কেনার সুযোগ পাবে।
যৌথ সামরিক কমিশনের বৈঠকে আঞ্চলিক সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কুয়েতে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে মাইক ডিমিনো আরও জানান, কুয়েত আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছে। এর ফলে মেরিল্যান্ড ন্যাশনাল গার্ডের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর নন-ন্যাটো এলাই’ বা প্রধান ন্যাটোবহির্ভূত মিত্র। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় কুয়েত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত।
সব মিলিয়ে ড্রোন প্রতিরোধ, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন ও কুয়েতের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া
-টিএস