পটুয়াখালীর বাউফলে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যালয়গুলোর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে তেঁতুলিয়া ও কারখানা নদী। যেকোনো সময় বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাছিপাড়া ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভয়াবহ নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে কারখানা নদী। যেকোনো সময় বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, বাহেরচর বন্দর এলাকার কারখানা নদীর তীর থেকে মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরে রয়েছে চররঘুনউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একইভাবে নদী থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট দূরে রয়েছে হিস্যাজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গোপালিয়া বাজার এলাকায় নদীর তীর থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরত্বে অবস্থান করছে পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া নিমদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলেছিল। ফলে কিছুদিন ভাঙন নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মাসখানেক আগে সেখানে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একটি মসজিদ, বাজার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নতুন করে ভবন করার মতো আশপাশে জায়গা নেই। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়ার ভাঙনে ইতিমধ্যে ধুলিয়া ইউনিয়নের চরবাসুদেবপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। নিমদি বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে পড়ায় বিকল্প স্থানে নতুন একটি ভবন প্রস্তুত করা হয়েছে। কাছিপাড়া ইউনিয়নের তিনটি বিদ্যালয়ের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম বলেন, ‘নদীতীরবর্তী এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানের পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। তাই ভাঙন রোধের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। কাছিপাড়া ও নাজিরপুর ইউনিয়নে নদীভাঙনের তীব্রতার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।’
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুর বস্তা বাজের মাধ্যমে ফেলতে হবে। এতে বালুর বস্তাগুলো একটির ওপর আরেকটি সঠিকভাবে বসবে এবং দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি বাজ পায়রা নদীতে রয়েছে। সেখান থেকে বাজ এনে বালুর বস্তা ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। ট্রলারের মাধ্যমে বালুর বস্তা ফেলতে চান না তারা। কারণ জোয়ার-ভাটার কারণে বালুর বস্তা ঠিক কোথায় পড়ছে, তা সঠিকভাবে বোঝা যায় না।
এএস/আরএন