দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তহশিলদার, অফিস সহকারী ও এক দালালকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মাহমুদ হাসান (৪৬), অফিস সহকারী শাহজাহান আলী (৫০) ও দালাল আব্দুর রহিম (৪৮)।
স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার পাঁচকড় গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ৮০ শতক জমির ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ১৯ হাজার ৭২০ টাকা পরিশোধের জন্য তহশিলদার মাহমুদ হাসানের স্বাক্ষর করা একটি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে সরকারি খাস দখলে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর শরিফ উদ্দিনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার সোমবার ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তহশিলদার তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেন এবং আরও ১২ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
টাকা দেওয়ার পর সুরাইয়া আক্তারকে দেওয়া রশিদে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ মাত্র ৭৩৮ টাকা উল্লেখ থাকায় তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি অফিসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে সেখানে থাকা অন্য সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা তহশিলদার মাহমুদ হাসান, অফিস সহকারী শাহজাহান আলী ও দালাল আব্দুর রহিমকে আটক করেন। এ সময় তাদের ওপর স্থানীয়দের মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, শরিফ উদ্দিনের জমির জন্য ১৯ হাজার ৭২০ টাকা ভূমি উন্নয়ন করের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর মাত্র ৭৩৮ টাকার রশিদ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তিনজনকে আটক করেন।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে আটক তিনজনকে প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় তাদের কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএইচ/আরএন