ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের চরকচ্ছপিয়া গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘ ৪০ বছরেও পাকা হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরকচ্ছপিয়া বাজার থেকে পাকার মাথা মেইন সড়ক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা। বিভিন্ন স্থানে সড়কটি ভেঙে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে বর্ষাকালে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি নারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষায় জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের বাঁশের দোলা কিংবা খাটিয়ায় করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিজি, বারেক দালাল ও ফারুল বেগম বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছি। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোটের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। আমরা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি।”
চরকচ্ছপিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি আনচার ও স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান বেপারী বলেন, দীর্ঘদিন সড়কটি কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
৯ নম্বর চরমানিকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিনারা বেগম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে বরাদ্দ এলে ওই কাঁচা রাস্তাটি মেরামত করা হবে।”
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ বলেন, “স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই রাস্তাটি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণ করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিলে চার দশকের এই ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করছেন তারা।
এসএফ/আরএন