কক্সবাজারের তারকা হোটেল সী-গালের এক রেস্টুরেন্ট ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পর্যটকের সঙ্গে খাবারের মান নিয়ে বিরোধ, হুমকি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার অভিযোগে মো. মীর কামরুল হাসানকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ আলী। গ্রেপ্তার কামরুল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বানিয়ারা এলাকার মীর মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ৭টার দিকে হোটেল সী-গালের রেস্টুরেন্টে খাবার নিয়ে ওই পর্যটকের সঙ্গে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পর্যটকের অভিযোগ, তিনি দেশি মুরগির অর্ডার দিলেও তাকে সোনালি মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়।
অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান না করে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অসদাচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতণ্ডা হয়।
পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার কামরুল রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন, হোটেল সী-গাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবং হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ওই পর্যটককে হুমকি দেয়া এবং ভুয়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে কামরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই শুভ রুদ্র বাদী হয়ে ১৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলার ভিত্তিতে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি শেখ মুহাম্মদ আলী বলেন, পর্যটকের সঙ্গে অবহেলা, ভুয়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা এবং হুমকি দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কক্সবাজারকে আরও পর্যটকবান্ধব করতে নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
বিশ্বখ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে পর্যটকবান্ধব করার প্রচেষ্টায় হোটেল সী-গালের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের রেস্টুরেন্ট ব্যবস্থাপকের এমন দায়িত্বহীন, অপেশাদার ও অপরাধমূলক আচরণ সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সাম্প্রতিক ঘটনার বাইরে হোটেল সী-গালের সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অতিথিদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ ও নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া গেছে। অনলাইন রিভিউ ও পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে বুকিং, রুমের মান, খাবার এবং কর্মীদের আচরণ নিয়ে অসন্তোষের কথা।
কিছু অতিথির অভিযোগ, নির্দিষ্ট মানের বা আপগ্রেডেড রুমের জন্য অর্থ পরিশোধের পরও প্রত্যাশিত মানের কক্ষ পাননি তারা। অনলাইন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে রিসেপশন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে রিসেপশন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বশীলদের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অতিথি। খাবারের মান, বিশেষ করে সকালের বুফে নাশতা, খাবার পরিবেশন এবং ব্যস্ত সময়ে টেবিল পরিষ্কার ও খাবার পুনরায় পরিবেশনে দেরির অভিযোগও বিভিন্ন রিভিউতে দেখা যায়।
রুমের সুযোগ-সুবিধা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কোনো কোনো অতিথি শাওয়ার, ফিটিংস ও আসবাবপত্র পুরোনো বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বালিশ-তোয়ালের পরিচ্ছন্নতা এবং ওয়াশরুমের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।
এর বাইরে হোটেলটির প্রাইভেট বিচে পর্যটক নিহতের ঘটনা, জায়গা দখলসহ আরও কিছু অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
এসএ