ভারত থেকে আমদানি ও বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীতে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মরিচে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামগ্রিক নিত্যপণ্যের চড়া দামে বাজারে এসে অস্বস্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। টানা বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা কমায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে নামলেও অফ-সিজনের শিম বিক্রি হচ্ছে বাজারে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে। একই সঙ্গে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজার চড়া থাকায় কেনাকাটা করতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা।
শুক্রবার রাজধানীর কাপ্তানবাজার, মালিবাগ, রামপুরা ও ওয়্যারলেস গেটসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে বাজারগুলোর এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় স্থান ও মানভেদে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহেও ছিল ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা।
টানা বৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সরবরাহ বাড়ায় পটল, শসা, ধন্দুল, চিচিঙা, ঢ্যাঁড়স, পেঁপে ও কাঁচা কলার মতো সবজিগুলো বেশিরভাগ বাজারে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারভেদে গোল বেগুনের কেজি ৮০ থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় উঠেছে। এছাড়া সরবরাহ কম ও মৌসুম না হওয়ায় প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা ও পাকা টমেটো ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকার ঘরে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, বিগত দুই-তিন সপ্তাহ আগের চড়া দামের তুলনায় সবজি কিছুটা হাতের নাগালে এলেও কয়েকটি পদ কিনতে গেলেই পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টিতে নতুন করে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সবজির দাম এমন সহনীয় পর্যায়েই থাকবে।
সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও উত্তাপ দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। এ ছাড়া গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতি ডজন ডিমের জন্য গুনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙাস ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আগুন ইলিশের দামে; এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কিনতে কেজিপ্রতি দিতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।
তবে চালের বাজারে সামান্য স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে বর্তমানে আঠাশ চাল ৬০ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোক্তাদের মতে, দু-একটি পণ্যের দাম আমদানির কারণে সাময়িক কমলেও মাছ-মাংস ও অপরিহার্য সবজির উচ্চমূল্যের কারণে বাজার পরিস্থিতি এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে।
এসএ