বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি অভিযোগ করে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী বলেছে, এটি জনগণের প্রতি সরকারের ‘দায়িত্বহীনতার’ পরিচয়। দলটি মনে করে, সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ‘সুদূরপ্রসারী’ সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নাগরিকরা বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করতে পারছে না, শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে ব্যাঘাত ঘটছে।
“সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় সরকার সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়া জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়।”
কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুৎ সংকট।
দেশে ব্যাপকহারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতিতে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত ইসলাম।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।”
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশে জ্বালানিসংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে ‘জনরোষ বাড়ছে’। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে বুধবার চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
“এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থপনায় ব্যর্থতার চিত্রকে তুলে ধরে।”
জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরোনো ‘অলিগার্কদের’ নতুন করে ‘সুবিধা’ দিয়ে সরকারের উদ্যোগ চলমান সংকটকে আরো গভীর করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পের গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমিয়ে আনা, ‘এনার্জি কনভার্শনের’ যাবতীয় পলিসি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা, তেল পাচার রোধের ব্যবস্থাসহ সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
“একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
টিআইএস