ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর নয়াবাড়ী স্ট্যান্ডে ফুটওভারব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হচ্ছেন হাজারো পথচারী। শিল্পনগরী কাঁচপুরের এই এলাকায় রয়েছে অসংখ্য কলকারখানা। ব্যস্ত এ মহাসড়ক পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবুও এখনো ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে কাঁচপুর সেতু-সংলগ্ন প্রাইভেট কারস্ট্যান্ড এবং কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দুটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ওই এলাকাগুলোতে পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। তবে একই ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নয়াবাড়ী স্ট্যান্ড এখনো নিরাপদ পারাপারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ স্ট্যান্ডের দুই পাশে রহিম স্টিল মিলস, অনন্ত গার্মেন্টস, এসএফ ফ্যাশন, গ্রিনলাইন বাস সার্ভিস সেন্টার, একাধিক পেট্রলপাম্পসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এ এলাকা দিয়ে মহাসড়ক পারাপার হন। ফুটওভারব্রিজ না থাকায় তাঁদের দ্রুতগতির যানবাহনের মাঝ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।
স্থানীয় রাসেল আহমেদ, রাজ্জাক মিয়া ও সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, গত কয়েক বছরে এ এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় মহাসড়ক পার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তারপরও এখনো ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মাহফুজ আহমেদ রাজিব বলেন, ‘অনেক স্থানে ব্যবহার না হলেও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ নয়াবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই এখানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’
কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হক রুমি বলেন, ‘নয়াবাড়ী স্ট্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হন। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, নয়াবাড়ী স্ট্যান্ডে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এমএইচ/আরএন