ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হওয়া লালমনিরহাট জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি শেলি খাতুনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা।
বহিষ্কার হওয়া শেলি খাতুন জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি। তিনি লালমনিরহাট জেলা শহরের আলোরুপা মোড় এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমানের স্ত্রী।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জান্নাত ফরেদৌস আরা রোজী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলার স্বাক্ষরিত পত্রের সূত্রে জানা যায়, দলটির জেলা শাখার সহ-সভাপতি শেলি খাতুন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে দলীয় পদ ও পদবি ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আমরা তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা পাই। জরুরি বৈঠক করে শেলি খাতুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
লালমনিরহাট শহরের আলোরুপা মোড় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মহিলা দল নেত্রী শেলি খাতুন দলীয় পদ ও পদবি ব্যবহার করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রত্যেক কার্ডের বিপরীতে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। চারজনের কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট বুধবার রাতে এলাকার নারীরা একত্রিত হয়ে শেলি খাতুনকে ডেকে আনেন। টাকা ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড মিলবে না—এমন কথা বললে উপস্থিত নারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং শেলি খাতুনকে মারধর শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেওয়া (৫৫) জানান, তিনি দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শেলি খাতুন তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়েছেন। কিন্তু চাঁদার ১০ হাজার টাকা না পাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না।’
আলেয়া বেওয়া বলেন, ‘শেলি খাতুন খুবই ঘুষখোর একজন মহিলা। তাকে আমরা গণধোলাই দিয়েছি। শুনেছি, দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খুবই ভালো কাজ করেছে। এ ধরনের মহিলা দলে থাকলে শুধু দলের বদনামই হতো।’
তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়া শেলি খাতুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।’
এমএস/আরএন